চলে গেলেন মওদুদ আহমেদ
চলে গেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমেদ। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান মিডিয়াকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে মওদুদ আহমদকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
এর আগে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দুই দফায় মওদুদ আহমদকে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান তাঁর ফুসফুসে পানি জমে যায়। পরে এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে তাঁকে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে আছেন স্ত্রী হাসনা মওদুদ আহমদ।
১৯৮২ সালে এরশাদ সামরিক শাসন জারি করার পর বিশেষ সামরিক আদালতে ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন এই রাজনীতিক। ১৯৮৫ সালে সেই দণ্ড মাথায় নিয়েই এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি হন মওদুদ আহমদ। এরশাদের পতনের পর ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টিতে ছিলেন। এর পরপরই ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা’র মতোই বিএনপিতে ফিরে আসেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মওদুদ আহমদ ধানের শীষ ও লাঙ্গল—দুই প্রতীকেই নির্বাচন করেছেন।
পাঁচবার মওদুদ আহমদ নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে নির্বাচিত হন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ। মওদুদ আহমদকে গত ৩০ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, ৮ থেকে ১০ দিন ধরে তিনি অসুস্থতা বোধ করছিলেন। তবে বাসায় চিকিৎসা চলছিল। একপর্যায়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে ও রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে সিসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন।

No comments